দুর্যোগজনিত মৃত্যু পরিহার করা সম্ভব
১২ মার্চ — পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস

অ্যাভয়ডেবল ডেথস নেটওয়ার্ক (ADN) একটি আন্তর্জাতিক প্রচারণা চালু করছে, যেখানে ১২ মার্চকে 'পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস ' (IAD4AD) হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে এবং 'দুর্যোগজনিত মৃত্যু পরিহার করা সম্ভব' এই স্লোগানের মাধ্যমে জীবন বাঁচানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।

পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস প্রতি বছর উদ্‌যাপিত হবে। আমরা বিশ্বের প্রতিটি ব্যক্তি, সম্প্রদায় ও সংগঠনকে এই দিনটি পালন করতে এবং তাদের নিজ নিজ শহর, নগর ও গ্রামে পরিহারযোগ্য দুর্যোগজনিত মৃত্যু সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে আমন্ত্রণ ও উৎসাহিত করছি।

২০২৮ সালে এই প্রচারণার একটি মধ্যবর্তী মূল্যায়ন পরিচালিত হবে। ২০৩৩ সালের পর 'সচেতনতা' শব্দটি বাদ দিয়ে ১২ মার্চকে 'পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস' (ID4AD) হিসেবে উদ্‌যাপন অব্যাহত থাকবে।

উদ্দেশ্য

১৯৯৮ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে জলবায়ু-সম্পর্কিত এবং ভূ-প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৩ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে আরও ৪৪০ কোটি মানুষ আহত, গৃহহীন, বাস্তুচ্যুত অথবা জরুরি মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তায় পড়েছেন। অধিকাংশ প্রাণহানি ঘটেছে ভূ-প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে ভূমিকম্প ও সুনামি এর কারণে। তবে সংখ্যার বিচারে সংঘটিত মোট দুর্যোগের ৯১ শতাংশই ছিল বন্যা, ঝড়, খরা, তাপপ্রবাহ এবং অন্যান্য চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনার ফল (UNISDR, 2018: 3)। যদিও প্রধান দুর্যোগ-সংক্রান্ত তথ্যভান্ডারগুলোতে দুর্যোগের প্রত্যক্ষ প্রভাবে সংঘটিত মৃত্যু (Direct Disaster Deaths) নথিভুক্ত করা হয়, পরোক্ষ দুর্যোগজনিত মৃত্যু (Indirect Disaster Deaths) এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য এখনো যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত হয় না। একই সঙ্গে, দুর্যোগ থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা এবং কোন পরিস্থিতিতে এসব মৃত্যু ঘটে তার প্রেক্ষাপটও পর্যাপ্তভাবে লিপিবদ্ধ হয় না। এই বৈশ্বিক প্রচারণার চারটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো—

-দুর্যোগজনিত মৃত্যুর দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি করা, বিশেষ করে পরোক্ষ দুর্যোগজনিত মৃত্যু ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়টি তুলে ধরা এবং এসব ঘটনার মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নথিভুক্ত করা।

-দুর্যোগজনিত মৃত্যুর ‘কারণ ও প্রেক্ষাপট’ শনাক্ত করা, যাতে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যকর হস্তক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষের জীবন রক্ষা করা যায়।

-'দুর্যোগজনিত মৃত্যু পরিহার করা সম্ভব' এই বৈশ্বিক বার্তাটি ছড়িয়ে দেওয়া। যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, কার্যকর চিকিৎসা ও জরুরি সেবা, এবং দুর্যোগ ঝুঁকি সুশাসন (Risk Governance) নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অনেক মৃত্যু এড়ানো সম্ভব।

-দুর্যোগজনিত মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা হ্রাস করা, রক্ষা পাওয়া প্রতিটি জীবনের মূল্যায়ন করা এবং দুর্যোগ থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি প্রদান করা।

অনুষ্ঠান

পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ২০২৩ সালের ১২ ও ১৩ মার্চ জাপানের ওসাকায় কানসাই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

আপনি যদি প্রথম পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস উদ্‌যাপনে অংশ নিতে চান, তাহলে ইমেইল করুন: contacts@avoidable-deaths.net

অনুগ্রহ করে প্রচারকদের নির্দেশিকা শিরোনামের অধীনে 'আমার কর্মক্ষেত্রে আমি কীভাবে পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস ব্যবহার করতে পারি' অংশটি পড়ুন।

অনুষ্ঠান পাতাটি প্রচারকদের তথ্য দিয়ে আপডেট করা হবে।

প্রচারকদের নির্দেশিকা

এই নির্দেশিকাটি ১২ মার্চ পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস উদ্‌যাপনে কার্যক্রম ও অনুষ্ঠান পরিকল্পনা এবং পরিচালনায় অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

-আমার কর্মক্ষেত্রে আমি কীভাবে পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস ব্যবহার করতে পারি

পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবসকে আপনার স্থানীয়, জাতীয় বা আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে পরিহারযোগ্য দুর্যোগজনিত মৃত্যু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করুন।ADN-এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী, অংশীদার প্রতিষ্ঠান, উপদেষ্টা, সহযোগী এবং নতুন অনুসারীদের অগ্রাধিকার তাদের নিজ নিজ প্রেক্ষাপট ও কর্মপরিবেশ অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তবে পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস উপলক্ষে নিম্নোক্ত যেকোনো বা সব ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে:

  • বৈশ্বিক পর্যায়ে পরিহারযোগ্য দুর্যোগজনিত মৃত্যুর ব্যাপকতা (প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ এবং নিখোঁজ ব্যক্তিসহ) সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
  • জাতীয় বা স্থানীয় পর্যায়ে পরিহারযোগ্য দুর্যোগজনিত মৃত্যু এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ও পরিস্থিতি তুলে ধরা।
  • জাতীয় বা স্থানীয় পর্যায়ে পরিহারযোগ্য দুর্যোগজনিত মৃত্যুর কারণ প্রেক্ষাপট চিহ্নিত ও আলোচনায় নিয়ে আসা।
  • বৈশ্বিক, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগজনিত মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ, নথিভুক্তকরণ ও প্রতিবেদন প্রণয়নের চ্যালেঞ্জ এবং উন্নয়নের সুযোগগুলো তুলে ধরা।
  • দুর্যোগে স্বজন হারানো পরিবারের অভিজ্ঞতা, কণ্ঠস্বর এবং তাদের জীবিকা ও জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব নথিভুক্ত করার উদ্যোগ শুরু করা বা বিদ্যমান উদ্যোগ অব্যাহত রাখা।
  • সিস্টেমস থিংকিং (Systems Thinking)-এর আলোকে পরিহারযোগ্য দুর্যোগজনিত মৃত্যু হ্রাসে আলোচনা শুরু বা অব্যাহত রাখা এবং বৈশ্বিক, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্বশীল প্রধান অংশীজনদের (Stakeholders) চিহ্নিত করা।
  • পরিহারযোগ্য দুর্যোগজনিত মৃত্যু কমাতে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু বা অব্যাহত রাখা।
  • পরিহারযোগ্য দুর্যোগজনিত মৃত্যু হ্রাসে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু বা অব্যাহত রাখা।
  • পরিহারযোগ্য দুর্যোগজনিত মৃত্যু কমাতে সময়োপযোগী কার্যকর হস্তক্ষেপমূলক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু বা অব্যাহত রাখা।
  • কার্যকর দুর্যোগ ঝুঁকি সুশাসন (Risk Governance) নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়, যোগাযোগ ও সহযোগিতা কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা শুরু বা অব্যাহত রাখা।
  • ২০৩০ সালের মধ্যে দুর্যোগজনিত মৃত্যু হ্রাসে UNDRR-এর সুপারিশকৃত পদক্ষেপ এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং কার্যক্রম পরিচালনা করা।
  • সরকারকে সুশীল সমাজ, একাডেমিয়া, বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে উৎসাহিত করা।
  • সরকারি সহায়তা থাকুক বা না থাকুক, বেসরকারি সংস্থাগুলোকে এই দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রম ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে উৎসাহিত করা।
  • স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস উপলক্ষে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে উৎসাহিত করা।

পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে পরিহারযোগ্য দুর্যোগজনিত মৃত্যু এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা হ্রাসে অগ্রগতি অর্জনের একটি অনন্য সুযোগ।

এছাড়া, এই দিবসটি দুর্যোগ চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে সংঘটিত দুর্যোগ-সম্পর্কিত সহিংসতা (Event Violence) প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও একটি অনন্য সুযোগ।

-পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস উপলক্ষে কার্যক্রম ও বার্তা সমন্বয়

পরিহারযোগ্য দুর্যোগজনিত মৃত্যু হ্রাসে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা-ভিত্তিক (Systems Approach) দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য, যেখানে স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক পর্যায়ের সকল সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তাত্ত্বিক জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কার্যকর সমাধান বিদ্যমান থাকায় পরিহারযোগ্য দুর্যোগজনিত মৃত্যু হ্রাস করা সম্ভব।

পরিহারযোগ্য দুর্যোগজনিত মৃত্যু হ্রাসে কাজ করা সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ এবং অভিন্ন বার্তা প্রচার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ উদ্দেশ্যে ধারাবাহিক ও সমন্বিত যোগাযোগ নিশ্চিত করার জন্য প্রচারণায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য ১৩টি বৈশ্বিক মূল বার্তা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব বার্তা সময়ের প্রয়োজন ও বাস্তবতার আলোকে পরিমার্জিত ও হালনাগাদ করা হবে। একই সঙ্গে, স্থানীয় ভাষা ও প্রেক্ষাপটের চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অভিযোজনও করা যেতে পারে।

১৩টি বৈশ্বিক মূল বার্তা

  1. প্রথম পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস ২০২৩ সালের ১২ ও ১৩ মার্চ (রবিবার ও সোমবার) পালন করা হবে।
  2. পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস এবং সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ফর ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন পরিহারযোগ্য দুর্যোগজনিত মৃত্যু ও আঘাত কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে এবং এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে।
  3. জলবায়ু-সম্পর্কিত বিপদের মাত্রা বৃদ্ধি পেলেও বিশ্বব্যাপী প্রত্যক্ষ দুর্যোগজনিত মৃত্যু কমছে। তবে পরোক্ষ দুর্যোগজনিত মৃত্যু এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তাই জীবন রক্ষাকারী কার্যকর হস্তক্ষেপ গ্রহণের জন্য পরোক্ষ দুর্যোগজনিত মৃত্যুর কারণ প্রেক্ষাপট গভীরভাবে বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  4. পরোক্ষ তাৎক্ষণিক মৃত্যু নথিভুক্ত করার জন্য সুপারিশকৃত সময়সীমা হলো দুর্যোগ সংঘটনের ২৪ ঘণ্টা পর থেকে ছয় মাস পর্যন্ত। আর পরোক্ষ বিলম্বিত মৃত্যু নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে সাত মাস পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সময়কাল বিবেচনা করা উচিত।
  5. নিম্ন-মধ্যম ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে পরিহারযোগ্য দুর্যোগজনিত মৃত্যুর বোঝা তুলনামূলকভাবে বেশি।
  6. পরিহারযোগ্য দুর্যোগজনিত মৃত্যুর সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করে সমাজের দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।
  7. পরিহারযোগ্য দুর্যোগজনিত মৃত্যু এক ধরনের দুর্যোগ-সম্পর্কিত সহিংসতা (Event Violence) এই সহিংসতা যেকোনো মূল্যে প্রতিরোধ করতে হবে।
  8. পরিহারযোগ্য দুর্যোগজনিত মৃত্যু হ্রাস করা রাষ্ট্র ও অ-রাষ্ট্রীয় অংশীজনের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ
  9. দুর্যোগজনিত মৃত্যু পরিহার করা সম্ভব।
  10. প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, সময়োপযোগী কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং দুর্যোগ ঝুঁকি সুশাসন এর (Risk Governance) মাধ্যমে দুর্যোগজনিত মৃত্যু পরিহার করা সম্ভব।
  11. আমরা প্রত্যেকেই পরিহারযোগ্য দুর্যোগজনিত মৃত্যু হ্রাসে ভূমিকা রাখতে পারি।
  12. প্রতিটি জীবন অমূল্য। প্রতিটি জীবন আমাদের জন্য মূল্যবান।
  13. পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস দুর্যোগজনিত মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে, রক্ষা পাওয়া জীবনের মূল্যায়ন করতে এবং দুর্যোগ থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষের জীবনকে যথাযথ মর্যাদা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কার্যক্রম পরিকল্পনা

আমরা প্রত্যেকেই পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস উপলক্ষে অর্থবহ অবদান রাখতে পারি। স্থানীয় বা জাতীয় গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অন্যান্য প্রচারমাধ্যম ব্যবহার করে পরিহারযোগ্য দুর্যোগজনিত মৃত্যু সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরার ওপর আপনার কার্যক্রমকে কেন্দ্রীভূত করার বিষয়টি বিবেচনা করুন।অনুগ্রহ করে ADN-এর সুপারিশকৃত ১৩টি মূল বৈশ্বিক বার্তার সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখুন।

কার্যক্রম পরিচালনার সময় ADN-এর সুপারিশকৃত ১৩টি বৈশ্বিক মূল বার্তার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিন।

পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস উপলক্ষে স্থানীয়, জাতীয় এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যেতে পারে। এর মধ্যে থাকতে পারে সেমিনার, ওয়েবিনার, সচেতনতামূলক প্রচারণার উদ্বোধন, প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সংবাদ সম্মেলন।

সশরীরে আয়োজিত অনুষ্ঠানের জন্য কিছু ধারণা ও পরামর্শ "আমার কর্মক্ষেত্রে আমি কীভাবে পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস ব্যবহার করতে পারি?" এবং "পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস: প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য নির্দেশিকা" শীর্ষক অংশে প্রদান করা হয়েছে।

সশরীরে অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে জাতীয় ও স্থানীয় কোভিড-১৯-সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি এবং চলাচল-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ যথাযথভাবে অনুসরণ করার বিষয়টি নিশ্চিত করুন।

প্রচারণার উপকরণ

দিবসটি উদ্‌যাপন উপলক্ষে ADN দল ব্যবহার-উপযোগী বিভিন্ন ডাউনলোডযোগ্য প্রচারণার উপকরণ প্রস্তুত করেছে।

-পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস: প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য নির্দেশিকা (PDF) [হাইপারলিংক]

-গ্রাফিক উপকরণ

  • "দুর্যোগজনিত মৃত্যু পরিহার করা সম্ভব" (দুইটি সংস্করণ) [হাইপারলিংক]
  • পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস, ১২ মার্চ; "দুর্যোগজনিত মৃত্যু পরিহার করা সম্ভব"; #avoidabledeathsday [হাইপারলিংক]

-ডায়নামিক টুলকিট

এই টুলকিটে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

  1. দুর্যোগজনিত মৃত্যুর ঘটনা ও অভিজ্ঞতা নথিভুক্ত করার একটি টুল।
  2. স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে দুর্যোগজনিত মৃত্যু হ্রাসে দায়িত্বপ্রাপ্ত অংশীজনদের চিহ্নিত ও মানচিত্রায়নের একটি টুল।

প্রচারণা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই টুলকিটে আরও নতুন উপকরণ যুক্ত করা হবে। সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যের জন্য নিয়মিত এটি পরিদর্শন করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সকল পোস্টে #avoidabledeathsday হ্যাশট্যাগটি ব্যবহার করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

একই হ্যাশট্যাগ ও অভিন্ন বার্তা ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষ এবং Avoidable Deaths Network (ADN)-এর বৈশ্বিক কমিউনিটি সহজে প্রচারণার বিষয়বস্তু খুঁজে পাবে, একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবে এবং বার্তাগুলোর প্রচার আরও বৃদ্ধি পাবে।

Avoidable Deaths Network: @Avoidabledeathsnetwork

UN Office for Disaster Risk Reduction (UNDRR): @UNDRR

World Health Organization (WHO): @WHO

Institute for Environmental Futures: @Environmentalfutures #environmentalfutures